৬ উইকেটে জিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই বাংলাদেশের
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের উদ্যাপনপাকিস্তান: ২৭২ ও ১৭২
বাংলাদেশ: ২৬২ ও ১৮৫/৪
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ড্রেসিংরুমের বারান্দায় ততক্ষণে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। পরের দুই ব্যাটসম্যান হিসেবে অপেক্ষারত লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দলের অন্যরাও। সবার মধ্যে উদ্যাপনের অপেক্ষা।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় লেখা উঠছে—জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ১২ রান। রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের ডিজে ঠিক সে সময়ে সাউন্ডবক্সে বললেন— ‘জিতেগা ভাই জিতেগা!’। ডিজের কথার সঙ্গে মিল রেখে দর্শকেরা বলছিলেন, ‘বাংলাদেশ জিতেগা!’
ক্রিজে থাকা সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম দুটি সিঙ্গেল ও এক বাউন্ডারিতে সংখ্যাটাকে কমিয়ে আনেন ৬-এ, এরপর ৪-এ। সেই কাঙ্ক্ষিত ৪ রান আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। ৫৬তম ওভারে আবরার আহমেদের বল কাভারে ঠেলে দিয়ে বাউন্ডারি তুলে নিলেই ইতিহাসের জন্ম দেয় বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারানোর পর দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয়ে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করল নাজমুলের দল।
ইতিহাস গড়ার মঞ্চটা গতকালই গড়ে বাংলাদেশ। প্রথমে হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানার আগুনে বোলিং, পরে জাকির হাসানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট থেকে প্রায় ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের ১৮৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কাল বিকেলে ৭ ওভারে ৪২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। পঞ্চম দিন জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৪৩ রান। আজ ৪ উইকেট হারিয়েই বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছে।
Bangladesh Makes History💥🇧🇩
First-ever test series win against Pakistan. Bangladesh 2- Pakistan 0. 👏
এ নিয়ে পঞ্চমবার বাংলাদেশ টেস্টে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল। এর আগে দুবার করে সিরিজ হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে এবারের জয়টা পাকিস্তানের মাটিতে বলেই এর মাহাত্ম্য আলাদা। ২০২২ সালে ইংল্যান্ড সিরিজ ছাড়া এই প্রথম ঘরের মাঠে কোনো দলের বিপক্ষে ধবলধোলাই হলো পাকিস্তান। বাংলাদেশের জন্য যা নিশ্চিতভাবেই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য।
আগের দিন বিকেলে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ইনিংস শুরু করা জাকিরের ইনিংসটি আজ সকালে দীর্ঘ হয়নি। দিনের পঞ্চম ওভার মির হামজা খুঁজে নেন ‘পারফেক্ট লেংথ’। অফ স্টাম্প থেকে ছোট্ট সিম মুভমেন্টে বেরিয়ে যাওয়া বলে সামনের পায়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন জাকির। ৩৯ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪০ রানে থামে জাকিরের ইনিংস। বাংলাদেশের রান তখন ৫৮।
আরেক ওপেনার সাদমানও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৭তম ওভারে খুররাম শেহজাদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে আলগা ড্রাইভ করে ক্যাচ আউট হন তিনি। ২৪ রানে থামে সাদমানের ইনিংস।

0 Comments